নিজস্ব প্রতিবেদক:
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ২১ শতাংশই যায় এই দেশটিতে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির হিসাবে চীন, ভিয়েতনামসহ সব প্রতিযোগী দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি পৃথিবীর অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।
আগের বছরের চেয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশেরও বেশি। চীনের বেড়েছে ১১ শতাংশের কিছু কম। ভিয়েতনামের প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ও দরের ক্ষেত্রে চীন ও ভিয়েতনামের প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান এখনও অটুট আছে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও তৃতীয়।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি বাড়িয়েছে ২২ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির হারের চেয়েও বাংলাদেশের রপ্তানির হার বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ওটেক্সার তথ্যমতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৯৭৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৭১৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ একবছরে রপ্তানি বেড়েছে ২৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে একই বছর চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৭৩ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার।
পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাড়ার ক্ষেত্রেও চীন এবং ভিয়েতনামের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। গত বছর ৩১৪ কোটি বর্গগজ কাপড়ের পোশাক রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। আগের বছরের চেয়ে যা বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। পরিমাণের দিক থেকে চীনের রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম হয়েছে। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ।
অবশ্য বাংলাদেশের রপ্তানির এ গতি পরের মাসগুলোতে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অটেক্সার জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশ। একই সময়ে চীনের রপ্তানি কম হয়েছে ৩২ এবং ভিয়েতনামের ২৭ শতাংশ।
গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ছয় শতাংশের মতো। পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার কয়েক দফায় বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। এতে আমদানি নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
Leave a Reply